মাদারীপুর শহরের একমাত্র বিনোদন ও পর্যটন কেন্দ্র ‘শকুনী লেক’ পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এক বিশেষ মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে লেকপাড়ের প্রায় অর্ধশত অবৈধ দোকানপাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন পর লেকপাড় দখলমুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে একশ্রেণির মৌসুমি ব্যবসায়ী শকুনী লেকের পাড়, হাঁটার পথ, বসার স্থান এবং ঐতিহাসিক ‘শহীদ কানন চত্বর’ দখল করে ফুচকা, চটপটি, ফাস্টফুড ও খেলনাসহ বিভিন্ন ধরনের দোকান বসিয়ে আসছিল। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের অবাধ বিচরণ ও বিনোদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতো। পাশাপাশি, এসব দোকানের বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা সরাসরি লেকের পানিতে ফেলায় নষ্ট হচ্ছিল লেকের সৌন্দর্য ও পরিবেশ।
শনিবার সকালে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া এবং জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তারের সার্বিক নির্দেশনা ও উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। অভিযানে জেলা প্রশাসনকে সক্রিয় সহযোগিতা প্রদান করে মাদারীপুর পৌরসভা, জেলা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান চলাকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জুয়েল আহমেদসহ জেলা প্রশাসনের বেশ কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পৌরসভার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার মিল্লাত হোসেন জানান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি শনিবার নিজ নিজ দপ্তর ও চারপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নিয়ম রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় আজ এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। লেকের সৌন্দর্য রক্ষা ও জনস্বার্থে জেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন