পাবনার ভাঙ্গুড়ায় সরকারি সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সোহেল রানা নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে এ অভিযোগে ১০-১৫ জন ভুক্তভোগী ভাঙ্গুড়া বাসস্ট্যান্ডে সোহেলকে পিটিয়ে থানায় সোপর্দ করেন।
পরে প্রায় ৩০ জন ভুক্তভোগী এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার সোহেলের বিরুদ্ধে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্ত সোহেল উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহেল উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পূর্ব থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। পূর্বেও সোহেল বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরপর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে তিনি রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। পরে ভাঙ্গুড়া ত্যাগ করে অন্যত্র চলে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি আবার ভাঙ্গুড়ায় ফিরে আসেন। ফিরে এসে পুনরায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এর ধারাবাহিকতায় সোহেল ভাঙ্গুড়া বাজার, পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের রাঙ্গালিয়া, পাটুলিপাড়া, ভেড়ামারা ও পারভাঙ্গুড়া গ্রামের অর্ধশতাধিক মানুষের কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড, পানির পাম্প, সরকারি প্রকল্পের ঘরসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা দেওয়ার কথা বলে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু টাকা দেওয়ার সাত-আট মাস পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ ভুক্তভোগী কোনো সুবিধা পাননি। ফলে ভুক্তভোগীদের একাংশ সোহেলকে আটক করে পিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে শনিবার থানায় ৩০ জন ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগী সোহেল আহমেদ বলেন, “সরকারি চালের কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে এক বছর আগে আমার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আজও কার্ড পাইনি। তাই তাকে ধরে পুলিশে দিয়েছি এবং অভিযোগ করেছি।”
আরেক ভুক্তভোগী হোটেলকর্মী তায়জাল হোসেন বলেন, “সরকারি ঘর দেওয়ার কথা বলে ৭-৮ মাস আগে আমার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা দেওয়ার প্রমাণও আমার কাছে আছে। কিন্তু আজও ঘর পাইনি। তাই থানায় অভিযোগ করেছি।”
অভিযোগের বিষয়ে সোহেল রানা কোনো বক্তব্য দেননি।
তবে তার স্ত্রী শিখা বলেন, “আমার স্বামী প্রতারক- এ কথা সবাই জানে। কিন্তু লোকজন তাকে টাকা দিল কেন? এখন তারা মারধর করছে। তাই টাকা পরিশোধ করতে হবে।”
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাকিউল আযম বলেন, “সোহেল সরকারি বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন- এ মর্মে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ করেছেন। যেহেতু এসব সুবিধা প্রদানের বিষয় উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাই তাদের উপজেলা প্রশাসনের কাছেও লিখিত অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সোহেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন