স্ত্রী পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে সেই প্রেমিকের স্ত্রীকেই বিয়ে করেছেন এক যুবক। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার পেকুয়া গ্রামের এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার শাজাহান সিরাজ।
পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। হাসান মিয়ার বাড়ির পাশে একটি এনজিওতে বাবুর্চির কাজ করতেন সাতক্ষীরা জেলার রাজু মিয়া। পাশাপাশি বাড়ি থাকায় রাজুর সঙ্গে পারিবারিকভাবে ওঠা-বসার সুযোগে জহুরা আক্তারের সঙ্গে গড়ে ওঠে সখ্যতা। এক পর্যায়ে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় পরকীয়ায়। গত মাসের ৭ মে বৃহস্পতিবার হাসানের স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে চলে যান রাজু। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান প্রতিশোধের পথ বেছে নেন।
ভুক্তভোগী স্বামী হাসান মিয়া বলেন, “ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি। পরকীয়া প্রেমের শাস্তি দিতেই আমি এমন কাজ করেছি।” চলতি মাসের ৪ জুন সাতক্ষীরা থেকে রাজুর স্ত্রীকে তার তিন বছরের সন্তানসহ মির্জাপুরে আনা হয় এবং পরে তাকে বিয়ে করেন।
বাবুর্চি রাজু মিয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে প্রতিশোধের ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এ ধরনের ঘটনা পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিকতা এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়ে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন