স্বাস্থ্যখাতে নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বরগুনায় ‘স্থায়িত্বশীল স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বরগুনার জাগোনারী প্রশিক্ষণ পাঠশালা ও গবেষণা কেন্দ্রে দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচ। এতে সহযোগিতা করে সুইডেন সরকার ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা জাগোনারী।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মী ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের ভূমিকা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকার ফোরাম গঠনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, স্বাস্থ্য কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যখাতে অব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতার অভাব এবং উচ্চ চিকিৎসা ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। তাই জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি অধিকারভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।
কর্মশালায় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ, নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য অধিকারভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি গ্রুপ আলোচনা, মতবিনিময় ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা দেশের স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, ই-হেলথ কার্ড চালু, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট প্রতিষ্ঠা, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি মনির হোসেন কামাল। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হেলথ ওয়াচের প্রোগ্রাম ম্যানেজার রাজেশ কুমার অধিকারী, অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মোফাখখার মোরশেদ খান, অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার মোরশেদ খান চৌধুরী, সহকারী প্রোগ্রাম অফিসার শিফাত আরা ইসলাম মীম, জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সাবেক সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা হাসি।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গঠিত স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামগুলো স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতে জবাবদিহিতা, সুশাসন ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন