এতিম মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমার স্বপ্ন পূরনের দায়িত্বে ডিসি সুমন

আরিফ হোসেন, বরিশাল প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
এতিম মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমার স্বপ্ন পূরনের দায়িত্বে ডিসি সুমন

ছবি আঁকা, হাতের কাজ, গান, সেলাই সবকিছুতেই সমান পারদর্শী বরিশাল সরকারি শিশু পরিবারের বেড়ে ওঠা মেয়েটি ফাতেমা আক্তার। সেই ফামেতার বাস্তব জীবনে গল্প শুনতে প্রথমেই দু’চোখে আপনার পানি চলে আসবে। জন্মের পর তার আশ্রয় হয়েছিল বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের ছোটমণি নিবাসে, পরে সেখানে থেকে বেড়ে উঠেছে সরকারি শিশু পরিবার বালিকা (উত্তর)-এ।

অসাধারণ মেধা ও নেতৃত্বগুণের অধিকারী এই মেয়েটি বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ফাতেমা।

আর্থিক সংকটই তার স্বপ্নের পথে কাটা হয়ে দাড়ায়। এবং কি মেধাবী শিক্ষার্থী ফাতেমা চরম আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আতঙ্কে দিন কাটাতে ছিলো। বিষয়টি জেলা সমাজ সেবার কর্মকর্তা সাজ্জাদ পারভেজ এর সাথে আলাপ করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলেন। পরে জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমন ফাতেমার স্বপ্নপূনের সকল দায়িত্ব নেন।

ছোটবেলায় পিতা-মাতাকে হারিয়ে ফাতেমা বরিশাল সরকারি শিশু পরিবারে আশ্রয় লাভ করেন। সেখানেই বেড়ে ওঠার পাশাপাশি লেখাপড়ায় অসাধারণ মেধার পরিচয় দিয়ে তিনি শিক্ষকদের প্রশংসা অর্জন করেন। আর্থিক ও পারিবারিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন পূরণে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্যেও শিক্ষা অর্জনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা ফাতেমার খোঁজ খবর নিয়ে তার শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ফাতেমার সংগ্রামী জীবন ও শিক্ষার প্রতি একাগ্রতার বিষয়টি জানতে পেরে প্রথমেই জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন তার প্রতি সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি ফাতেমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার পড়াশোনার অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের শিক্ষা ও মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ফাতেমার মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

জেলা প্রশাসকের এমন মানবিক উদ্যোগে শিশু পরিবারের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, প্রশাসনের এই সহযোগিতা ফাতেমার মতো অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

ফাতেমার স্বপ্নপূনে পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালেও বরিশাল জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন এবং বিভাগীয় সমাজ সেবা কার্যালয়ের পরিচালক আন্তরিক সহযোগিতায় তার ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের দ্বিতীয় বর্ষে ভর্তি ও শিক্ষাজীবনের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করেন। পাশাপাশি মানুষের সেবার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলা ফাতেমার জন্য শুভকামনা করেন।

ফাতেমাও জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই সহযোগিতা তাকে ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজের অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এএন