মাগুরা শহরের সৈয়দ আতর আলী সড়কের নবনির্মিত টোকন প্লাজা কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে ভোররাতে দুটি জুয়েলার্স দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। শাটার ও তালা ভেঙে দোকানে ঢুকে সোনা-রুপার অলংকার ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন দোকান মালিকরা। ঘটনাটি নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্সের মালিক নিমাই কর জানান, তার দোকান থেকে আনুমানিক দুই ভরি সোনা ও প্রায় ৫০ ভরি রুপার অলংকার চুরি হয়েছে। সকালে দোকান খুলতে এসে তিনি শাটার ও তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান।
অপরদিকে তারা জুয়েলার্সের স্বত্বাধিকারী বেদু বিশ্বাস বলেন, তার দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে থাকা মালামাল তছনছ করা হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ ভরি রুপার অলংকার খোয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া দোকানে থাকা সিটি গোল্ডের বিভিন্ন পণ্যও নষ্ট করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টোকন প্লাজার দ্বিতীয় তলার একটি অংশ হয়ে মাঝের সিঁড়ি ব্যবহার করে চোরেরা নিচতলার পেছনের দিকে থাকা দুটি দোকানে প্রবেশ করে থাকতে পারে। নবনির্মিত ভবনটিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর সিসিটিভি নজরদারির অভাব থাকায় চোরদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে ধারণা করছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত দুই দোকানেই গ্রাহকদের অর্ডার অনুযায়ী স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার তৈরি করা হতো। ফলে ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি গ্রাহকদের অর্ডারকৃত মালামাল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মাগুরা জুয়েলার্স সমিতির আহ্বায়ক ওহিদুল ইসলাম বলেন, শহরের একটি বাণিজ্যিক মার্কেটে একই রাতে দুটি জুয়েলার্স দোকানে চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
মাগুরা জেলা বণিক সমিতির সভাপতি রাজা মিয়া বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কার সৃষ্টি করেছে। তিনি বাজার ও মার্কেটগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন বলেন, ঘটনাটি দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আধুনিক বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা, নিরাপত্তারক্ষী ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন