রাজশাহীতে ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: জুন ৮, ২০২৬, ০৫:৫০ পিএম
রাজশাহীতে ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ২

রাজশাহী মহানগরীর বেলপুকুর থানায় দায়ের হওয়া একটি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস দস্যুতা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ অর্থ, দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত অস্ত্রসদৃশ বস্তু ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার দুপুর ২টায় মহানগর ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, বোয়ালিয়া থানার সপুরা এলাকার মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রহমান ডাবলু (৩৬) এবং মতিহার থানার মির্জাপুর এলাকার মৃত হাসানের ছেলে, বর্তমানে কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আবু সাদাত মো. সায়েম ওরফে মিলন (৪৮)।

পুলিশ জানায়, গত ১৪ এপ্রিল পাবনা ডেইরি ফার্মের কর্মচারী মো. মাসুদ রানা ২ হাজার লিটার শীতলকৃত তরল দুধ নিয়ে রাজশাহীর সপুরা সেলস সেন্টারে আসেন। দুধ সরবরাহ শেষে সেন্টার ম্যানেজার তার কাছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা দেন, যা তিনি প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়ার জন্য লরির ভেতরে রাখেন।

পরে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পর বেলপুকুর থানার উত্তর কাজীরপাড়া এলাকায় পৌঁছালে রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা লরির গতিরোধ করে। একপর্যায়ে তারা জানালার কাঁচ ভেঙে চালককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর বেলপুকুর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুর রহমান ডাবলু এবং সরাসরি অংশগ্রহণকারী সায়েম ওরফে মিলনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারকৃত ডাবলুর কাছ থেকে ছিনতাইকৃত ২৬ হাজার টাকা এবং মিলনের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা, একটি পিস্তলসদৃশ বস্তু ও দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে। মামলার অন্যান্য আসামি গ্রেপ্তার এবং অবশিষ্ট ছিনতাইকৃত অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরএমপি জানিয়েছে, মহানগরীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এএন