রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর মল্লিক (৩৭) মারা গেছেন।
৭ জুন রবিবার বিকেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহত জাহাঙ্গীর মল্লিক উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দিন মোল্লা পাড়ার আয়নাল মল্লিকের ছেলে।
ঘটনার পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মরদেহ বাড়িতে আনা হলে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
নিহতের পরিবার জানায়, গত ২৬ এপ্রিল ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীর মল্লিকের বাড়িতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মানিক মোল্লা, আলম মণ্ডলসহ ১৩–১৪ জন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। তারা জাহাঙ্গীরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়।
নিহতের বড় ভাই মকিম মল্লিক বলেন, চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ৪-৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাতে তার ব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি প্যারালাইজড হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
নিহতের স্ত্রী আছমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী কারও কোনো ক্ষতি করেনি। তাহলে তাকে কেন এমনভাবে হত্যা করা হলো, আমি এর বিচার চাই।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, জাহাঙ্গীর মল্লিক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী নতুন করে হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে। এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে রয়েছেন এবং দুজন পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন