তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের পাঁচ জেলায় পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন। দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রোববার থেকে এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য, মহাসড়কে অবৈধ ইজিবাইক, মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমনসহ বিভিন্ন ধরনের থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধসহ তিনটি দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছেন। একাধিক বৈঠক হলেও দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ধর্মঘট কার্যকর হলে বাগেরহাট, খুলনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় এর প্রভাব পড়বে।
শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী খুলনা ও বরিশাল বিভাগে ১৮টি বিআরটিসি বাস চলাচলের কথা থাকলেও বাস্তবে এর সংখ্যা আরও বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে বারবার বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ বিষয়ে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, পরিবহন মালিকদের উত্থাপিত তিন দফা দাবির বিষয়ে প্রশাসন অবগত রয়েছে। ধর্মঘট এড়াতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত আছে।
পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের উত্থাপিত তিন দফা দাবি হলো—
১. সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত বিআরটিসি ও লিজকৃত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা এবং নীতিমালা অনুযায়ী জেলা টার্মিনালে একটি কাউন্টার রেখে পথে পথে গড়ে ওঠা অবৈধ কাউন্টার অপসারণ করা।
২. আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ থ্রি-হুইলার, মাহেন্দ্র, নছিমন, করিমন ও অটোরিকশার চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা।
৩. দূরপাল্লার পরিবহনে নীতিমালার বাইরে লোকাল বা মাঝপথের যাত্রী পরিবহন বন্ধ নিশ্চিত করা।
দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হলে ধর্মঘট কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন