মাগুরায় তিল চাষের ধুম, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৮৩১ মেট্রিক টন

মিরাজ আহমেদ, মাগুরা প্রকাশিত: জুন ১৫, ২০২৬, ০২:০৮ পিএম
মাগুরায় তিল চাষের ধুম, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৮৩১ মেট্রিক টন

চলতি খরিফ-১ মৌসুমে মাগুরা জেলায় তিল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, সরকারি প্রণোদনা এবং কৃষি বিভাগের নিবিড় তদারকির কারণে জেলার চার উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে তিলের আবাদ হয়েছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩ হাজার ২২১ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড়ে ১ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ফলন ধরা হলে জেলায় মোট ৪ হাজার ৮৩১ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন তিল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিল চাষ সম্প্রসারণে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার ২ হাজার কৃষককে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে ১ কেজি করে তিল বীজ ও ১০ কেজি করে ডিএপি সার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজার কৃষককে ৫ কেজি করে এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে।

সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি হয়েছে এবং আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। তিল গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে। বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বেশ ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।

শ্রীপুর উপজেলার কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, সরকারি প্রণোদনার কারণে অনেক কৃষক তিল চাষে উৎসাহ পেয়েছেন। বিনামূল্যে বীজ ও সার পাওয়ায় উৎপাদন খরচও কিছুটা কমেছে।

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, চলতি মৌসুমে জেলার ৩ হাজার ২২১ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৪ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টনের বেশি তিল উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

কৃষি বিভাগ বলছে, খাদ্যশস্যের পাশাপাশি তেলবীজ ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি বর্তমানে সময়ের দাবি। দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে তিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে তিলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশীয় তেল উৎপাদনেও ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

জেএইচআর