মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয় এবং অন্তত ১২টি বসতঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে দাঙ্গাবাজরা পুলিশের দুটি গাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। সোমবার সকালে সদর উপজেলার ঝিকরহাটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে ঝিকরহাটি গ্রামের বন্দে আলী মোল্লার ছেলে নুরুজ্জামান মোল্লা (৩৫), একই গ্রামের মোতালেব ফকিরের ছেলে মাসুদ ফকির (৩৫), আব্দুল মজিদ খানের ছেলে হানিফ খান (৪৫) ও সিদ্দিক হাওলাদারের ছেলে কামরুল হাওলাদারের (২৫) নাম জানা গেছে। তাঁদের উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ঝিকরহাটি গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় পলাশ খানের সাথে একই এলাকার কবির মোল্লা ও রিপন খানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে সোমবার সকালে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় পুরো এলাকায় দফায় দফায় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হলে চারদিকে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে এক পক্ষ অপর পক্ষের অন্তত ১২টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পুলিশের ওপর ও গাড়িতে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পুনরায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন