ভিন্ন দেশ, ভিন্ন সংস্কৃতি ও হাজারো মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব-কোনো কিছুই বাধা হতে পারেনি তাঁদের ভালোবাসার মাঝে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে শুরু হওয়া পরিচয় থেকে প্রেম, আর অবশেষে তা রূপ নিলো পরিণয়ে। ভালোবাসার টানে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন দুবাই পুলিশে কর্মরত সলেমান নামের এক নাগরিক।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার তরুণী সুবর্ণা খান এখন সলেমানের জীবনসঙ্গী। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) জাজিরা উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা গ্রামে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে জমকালো আয়োজনে এই ব্যতিক্রমী বিয়ে সম্পন্ন হয়। ভিন্ন দেশের দুই নাগরিকের এই বিয়েকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান সুবর্ণা। সেখানে আবুধাবির একটি পার্কে ঘুরতে গিয়ে সলেমানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সুসম্পর্ক গভীর ভালোবাসায় রূপ নেয়। একপর্যায়ে তাঁরা দুজনেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং এতে উভয় পরিবার সানন্দে সম্মতি জানায়।
বিয়ে উপলক্ষে সুবর্ণার গ্রামের বাড়িতে ব্যাপক আয়োজন করা হয়। আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় সুধীজনসহ প্রায় দুই হাজার অতিথির জন্য ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। গতকাল রবিবার রাতে গায়ে হলুদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সোমবার বিয়ের মূল পর্ব সম্পন্ন হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সলেমান পূর্বে বিবাহিত এবং তিনি তিন সন্তানের জনক। বর বিবাহিত এবং সন্তানের বাবা হওয়ার বিষয়টি সুবর্ণা ও তাঁর পরিবার আগে থেকেই জানতেন। সব জেনে বুঝেই পরিবারের সম্মতিতে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে দুবাই পুলিশে কর্মরত সলেমান ব্যক্তিগত গোপনীয়তার কারণে গণমাধ্যমের সামনে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভিনদেশি বরের সঙ্গে স্থানীয় তরুণীর এই বিয়েকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। কনে সুবর্ণার স্বজন ও প্রতিবেশীরা নবদম্পতির সুন্দর ও সুখী ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন