নীলফামারীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই দফা হামলা, চোখে গুরুতর জখম

আল-আমিন, নীলফামারী প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম
নীলফামারীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই দফা হামলা, চোখে গুরুতর জখম

নীলফামারী সদরের ইটাখোলা চৌধুরীপাড়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি পরিবারের ওপর দুই দফায় বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে নারী নির্যাতন, শ্লীলতাহানি ও মারধরের পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাস্তার মোড়ে আবারও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধ হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। এ সময় ধারালো ছোরার আঘাতে এক যুবকের চোখ গুরুতর জখম হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম (৩২) বাদী হয়ে নীলফামারী থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২ টায় পূর্ব শত্রুতার জেরে বিবাদী মো. মোজারপ ইসলাম (২৬), সোনা মিয়া ওরফে ভান্টু (৩৪), মো. জামাল হোসেনের পরিবারসহ একদল সন্ত্রাসী লাঠি-সোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সিরাজুল ইসলামের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে।

সেখানে সিরাজুলের স্ত্রী মোছা. সুমনা বেগমকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও লাঠি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা জখম করা হয়। ১নং আসামি সুমনা বেগমের পোশাক টেনে শ্লীলতাহানি ঘটায় এবং অন্যান্য নারী আসামিরা তাকে চুলে ধরে মাটিতে ফেলে বুকে-পিঠে লাথি মারে। সিরাজুলের বাবা ও মা মোছা. নাজমা বেগম তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও পিটিয়ে আহত করে। ২নং আসামি সোনা মিয়া সিরাজুলের বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে শ্বাসরোধ করার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে সিরাজুল ইসলাম খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে বাবা-মাকে উদ্ধার করতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুমানা বেগম ও মো. আ. ছালামসহ প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

প্রথম দফার হামলার পর দুপুর আনুমানিক ১টায় সিরাজুল ইসলাম তার আহত স্ত্রীকে ভ্যানযোগে চিকিৎসার জন্য নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে নীলফামারী থানাধীন ‘মায়াময় মোড়ে’ পৌঁছানো মাত্রই পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা উক্ত আসামিরাসহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী তাদের ওপর পুনরায় চড়াও হয়।

৪নং আসামি মো. কাবুল হোসেনের হুকুমে আসামিরা সিরাজুলকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। তাকে বাঁচাতে স্ত্রী ও বড় ভাই মো. এনামুল হক এগিয়ে এলে আসামিরা তাদের ওপরও চড়াও হয়। একপর্যায়ে ২নং আসামি সোনা মিয়া তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে এনামুল হককে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় কোপ মারে। এনামুল মাথা সরিয়ে নিলে কোপটি তার বাম চোখে গিয়ে লাগে। এতে তার চোখ মারাত্মকভাবে কেটে রক্তাক্ত জখম হয় এবং চোখটি সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাদের চিৎকারে বাবা-মা এগিয়ে এলে আসামিরা তাদেরও পুনরায় পেটায়। পরে অমিত হাসান, শেফালী বেগম, শাহিনুর ইসলামসহ স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। যাওয়ার সময় আসামিরা প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে পরবর্তীতে একা পেলে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও বড় ভাই এনামুল হককে প্রথমে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বড় ভাই এনামুল হকের চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। বাদী সিরাজুল ইসলাম ও তার বাবা-মা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী সিরাজুল ইসলাম জানান, “আসামিরা আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। আমার ভাইয়ের চোখ আজ নষ্ট হওয়ার পথে এবং মামলা দেওয়ার পর আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এএন