গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ১৯, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেছে পুলিশ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও উপজেলার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় ব্ল্যাকমেইল ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তিন পুলিশ সদস্য গণপিটুনির শিকার হয়েছেন এলাকাবাসীর হাতে। খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। 

তবে পুলিশ বলছে, এটি পরিকল্পিত ছিল কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে আড়াইহাজার ও সোনারগাঁও থানার সীমান্তবর্তী শান্তিরবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই মামুন, এএসআই আমান ও কনস্টেবল কবির। তাঁরা ঢাকা দক্ষিণের কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায় ডিবি পুলিশে কর্মরত বলে জানা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, ওই তিন পুলিশ সদস্য নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করতেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আড়াইহাজার থানার ওসি সবজেল হোসেন বলেন, ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়ের কোনো অভিযোগ থাকলে থানা পুলিশকে জানালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। পুলিশ সদস্যদের আটক করে মারধর করা হয়েছে- এটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কর্মকাণ্ড নিয়ে এলাকায় নানা অভিযোগ ছিল। ঘটনার দিন তাঁদের সন্দেহজনক আচরণ দেখে এলাকাবাসী জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে অনেকে তাঁদের ভুয়া ডিবি পুলিশ সন্দেহে আটক করেন। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে।

খবর পেয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত তিনজনকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তাঁরা আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) মেহেদী ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। তবে তারা কীভাবে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন- এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

এএন