হত্যা মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, মূল ২ হত্যাকারী গ্রেপ্তার

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২১, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
হত্যা মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদঘাটন, মূল ২ হত্যাকারী গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে ক্লুলেস অটোচালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম (৩২) হত্যা মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অটোরিকশা উদ্ধারসহ মূল দুই হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে বাঙ্গরা বাজার থানা পুলিশ। রোববার বিকেলে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিউল আলম।

গতকাল শনিবার (২০ জুন) বিকেলে কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে মো. নাঈম ইসলামকে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য মতে রাতে অপর আসামি আরমান সরকারকে (২০) গ্রেপ্তার এবং ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত নাঈম ইসলাম দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণ টিলী গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং আরমান সরকার মুরাদনগর উপজেলার হিরাপুর গ্রামের লিটন সরকারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, অটোরিকশা চালক মাহাবুব আলম ওরফে মাসুম গত ১৯ জুন বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। সবশেষ রাত ১০টায় স্ত্রীর সাথে ফোনে কোম্পানীগঞ্জ যাওয়ার কথা জানালেও পরবর্তীতে তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ২০ জুন সকালে মুরাদনগর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে ওইদিন সকাল ১০টায় বাঙ্গরা বাজার থানার টনকী ইউনিয়নের বৈলাবাড়ী গ্রামস্থ পূর্ব পাড়া ধরেরপাড় এলাকা থেকে ভিকটিমের মাথায় থেঁতলানো ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রক্তাক্ত আঘাতসহ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভিকটিমের পরিবার মরদেহ শনাক্ত করার পর বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদ্ঘাটনে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নির্দেশনায় বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্তে নামে। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কোম্পানীগঞ্জ এলাকায় দুজন ব্যক্তি একটি সন্দেহভাজন অটোরিকশা বিক্রির চেষ্টা করছে। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে মো. নাঈম ইসলামকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে নাঈম স্বীকার করে, সে এবং তার এক সহযোগী মিলে মাসুমকে হত্যা করে অটোরিকশাটি ছিনতাই করেছে। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশাটি উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপর আসামি আরমান সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধী রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিউল আলম। মামলা রুজুর মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িত মূল আসামিদের গ্রেপ্তারের ফলে পুলিশের প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হয়েছে এবং এলাকার সর্বস্তরের জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জেএইচআর