ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ, হত্যা ও লাশ গুমের মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহ আহম্মদ জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় প্রদান করেন। একই সাথে লাশ গুমের অপরাধে আসামিকে আরও ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই ঘটনার মাত্র ১১০ দিনের মাথায় দ্রুততম সময়ে তদন্ত, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় দিলেন।
নিহত শিশু তাবাচ্ছুমের পৈতৃক নিবাস মহেশপুর উপজেলার ভৈরবা গ্রামে হলেও, মায়ের চাকরির সুবাদে তারা কালীগঞ্জের বারবাজার বাদেডিহি গ্রামে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকত। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আসামি আবু তাহের চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে এবং লাশ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত তৎপরতা চালিয়ে ওই রাতেই কুষ্টিয়া থেকে ঘাতক আবু তাহেরকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে গত ২৬ মে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট আকিলুল ইসলাম এবং আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট তরিকুল আলম শুনানিতে অংশ নেন।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে তাবাচ্ছুমের বাবা নজরুল ইসলাম ও মা হালিমা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবি জানান। এদিকে এই দৃষ্টান্তমূলক রায়ের খবরে কালীগঞ্জ ও নিহত শিশুর নিজ গ্রাম মহেশপুরের ভৈরবায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন