সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে ঈশ্বরগঞ্জে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুন ২৩, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম
সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে ঈশ্বরগঞ্জে আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ হলরুমে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপের (পিএফজি) আয়োজনে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএফজির সমন্বয়কারী ও দৈনিক ইত্তেফাকের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি মো. সাইফুল ইসলাম তালুকদার। পিএফজির পিস অ্যাম্বাসেডর নীলকণ্ঠ আইচ মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আজম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আমিরুল ইসলাম ভুঁঞা মনি এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ.কে.এম. আতিকুর রাজ্জাক ভুঁঞা হিরা।

সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংলাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর মাঠ সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান। প্রবন্ধে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সামাজিক সম্প্রীতি এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় নাগরিক সমাজ, ধর্মীয় নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ বহুধর্ম, বহুমত ও বহুসংস্কৃতির দেশ। এ দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির বন্ধন। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বিভেদ নয়, বরং পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি।

বক্তারা আরও বলেন, গুজব, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, উসকানি বা যেকোনো ধরনের সহিংসতা সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ সমাজ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকর্মীদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামপুর জামিয়া গাফুরিয়া দারুস সুন্নাহর পরিচালক মুফতি মাহমুদুল হক আজীজী, সোহাগী জামিয়া মাহমুদিয়া দারুস সালামের সহকারী পরিচালক মুফতি নাইমুল ইসলাম, উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী, ঈশ্বরগঞ্জ গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক উদয় সরকার, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের আহ্বায়ক চন্দন রঞ্জন সরকার, উপজেলা জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা মো. শরীফ উদ্দিন এবং কালীবাড়ি শ্রী শ্রী করুণাময়ী কালী মন্দিরের পুরোহিত ডালিম চক্রবর্তী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতা জোরদার, সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উক্ত আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি সংলাপে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, শিক্ষক, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, যুব প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।

এএন