বাগেরহাটে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে কৃতি এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন ও সমাজসেবামূলক সংস্থা, সিএসএস (Christian Service Society)-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনে আরও বড় সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিতেই সিএসএস এই মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৭ জন কৃতি শিক্ষার্থীকে এই বিশেষ সংবর্ধনা ও আর্থিক বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলার সম্মানিত জেলা শিক্ষা অফিসার মোহা. সাদিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে অলঙ্কৃত করেন সিএসএস-এর খুলনা ও গোপালগঞ্জ জোনের সম্মানিত প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসএস গোপালগঞ্জ জোনের জোনাল ম্যানেজার মিস্টার সঞ্জিত সরকার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মণ্ডলী, অভিভাবকবৃন্দ এবং সিএসএস-এর স্থানীয় মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা ও বৃত্তি প্রদান পর্ব। মেধার স্বীকৃতি স্বরূপ সংবর্ধিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে বিশেষ সম্মাননা সার্টিফিকেট (সনদপত্র) এবং আর্থিক শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেওয়া হয়।

উপস্থিত সুধীজন মনে করেন, এই ধরনের আর্থিক ও মানসিক সহযোগিতা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথকে মসৃণ করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনে আরও বড় অর্জনের জন্য দারুণ উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহা. সাদিকুল ইসলাম কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজকের এই সংবর্ধনা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি মেধার এক অনন্য স্বীকৃতি। এই ৭ জন শিক্ষার্থী তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাগেরহাট জেলাকে গৌরবান্বিত করেছে। তবে মনে রাখতে হবে, জিপিএ-৫ বা ভালো ফলাফল করাই জীবনের শেষ লক্ষ্য না, বরং একজন ভালো ও মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হওয়া সবচেয়ে বেশি জরুরি।
তিনি সিএসএস-এর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো যখন এভাবে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ায়, তখন দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে তা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিএসএস-এর খুলনা ও গোপালগঞ্জ জোনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ ধরনের সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বহুলাংশে বৃদ্ধি করে এবং তাদের আরও ভালো ফলাফলের জন্য অনুপ্রাণিত করে। সিএসএস সবসময়ই মেধার মূল্যায়নে বিশ্বাসী এবং তরুণ প্রজন্মকে দেশের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভাপতির বক্তব্যে মিস্টার সঞ্জিত সরকার কৃতি শিক্ষার্থীদের সাফল্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। আজ সিএসএস তোমাদের যে সম্মাননা দিল, আশা করি তোমরা ভবিষ্যতেও এর মর্যাদা ধরে রাখবে এবং দেশের কল্যাণে কাজ করবে।
শিক্ষার উন্নয়নে সিএসএস (CSS)-এর ভূমিকা
আয়োজক প্রতিষ্ঠান ক্রিশ্চিয়ান সার্ভিস সোসাইটি (সিএসএস) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
শিক্ষায় সিএসএস-এর মূল কার্যক্রমসমূহ
মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে যেন কোনো মেধার অপচয় না হয়, সেজন্য প্রতি বছর শত শত শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের স্কুলমুখী করতে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ। শিক্ষা ছাড়াও স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে সিএসএস দেশজুড়ে কাজ করছে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, সিএসএস-এর এই ধরনের সামাজিক ও শিক্ষাবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব, দায়িত্বশীলতা এবং শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে।
সংবর্ধনা ও বৃত্তি পেয়ে নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে কৃতি শিক্ষার্থীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। তারা জানায়, এই সম্মাননা তাদের জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি। এই স্বীকৃতি তাদের আগামী দিনের পড়াশোনার প্রতি দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দিল। অভিভাবকেরাও সিএসএস কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, এই শিক্ষাবৃত্তি তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার খরচ জোগাতে বড় ধরনের মানসিক ও আর্থিক স্বস্তি দেবে।সমাপ্তি ঘোষণা
সমগ্র অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, মার্জিত ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের শেষ অংশে উপস্থিত সকল কৃতি শিক্ষার্থীর সার্বিক সফলতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে তাদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানানো হয়। এক বর্ণাঢ্য ফটোসেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন