ভৈরবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত

এম. আর. সোহেল, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রকাশিত: জুন ২৬, ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ভৈরবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র আশুরা পালিত

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিলের মধ্য দিয়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে শুক্রবার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন খতম, জিকির-আজকার, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল, নফল রোজা পালন এবং গরিবদের মাঝে খাদ্য বিতরণের আয়োজন করেন।

স্থানীয় ইতিহাস থেকে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দেড়শত বছর পূর্বে ওলি পরিচিত হযরত সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব (রহ.)-এর সিলসিলায়ে হোসাইনীয়া চিশতীয়া তরিকায় ভৈরবে ১০ মহরম পবিত্র আশুরা পালনের সূচনা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও শাহাদাতে কারবালার স্মরণে ভৈরবের প্রায় ১২ থেকে ১৪টি ইমামবাড়া ও খানকা ভিত্তিক পারিবারিক উদ্যোগে শোকগাথা জারি, মার্সিয়া ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।

আজ বিকেলে উপজেলার পৌর এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা শোকাবহ তাজিয়া মিছিলগুলো নানা প্রকার বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে ঘোড়া, মিনার ও পালকি নিয়ে দীর্ঘ পথ হেঁটে লক্ষ্মীপুরস্থ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে সমবেত হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘কারবালার মাঠ’ নামে পরিচিত। ভক্তরা কালো বা শোকের লেবাস ধারণ করে খালি পায়ে ‘ইয়া হাসান, ইয়া হোসাইন’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। কারবালা মাঠে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতিতে শোকের মাতম ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

পৌর শহরের লক্ষ্মীপুর হোসাইনী মঞ্জিলের খাদেম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছ ফকির বলেন, অষ্টগ্রামের পীর সৈয়দ আলাই মিয়া সাহেব (রহ.)-এর ভক্তবৃন্দ প্রায় দেড়শত বছরেরও অধিক সময় ধরে ভৈরবে এই দিবসটি পালন করে আসছেন। এ দিনটিতে কারবালার শোকাবহ পুঁথি ও গজল পাঠ করা হয়। কারবালার প্রান্তরে হযরত ইমাম হোসেন (রা.)-এর সপরিবারে শাহাদাতবরণের এই বেদনাবিধুর দিনে ধর্মপ্রাণ মানুষ ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে দিনটি অতিবাহিত করেন।

ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, পবিত্র আশুরার এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে নির্বিঘ্ন করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যার ফলে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এবারের আশুরা ও তাজিয়া মিছিল সম্পন্ন হয়েছে।

জেএইচআর