চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিয়ের দুই মাসের মধ্যেই জানা গেছে, এক নববধূ ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নববধূর দায়ের করা মামলায় তার সাবেক প্রেমিককে আটক করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার সুরসই গ্রামের মৃত আজম খানের মেয়ের মাত্র দুই মাস আগে বিয়ে হয়। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানা যায়, মেয়েটি ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
এরপর মেয়েটিকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী উয়ারুক গ্রামের লুতু মিয়ার ছেলে নিহাদ ইসলামের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নিহাদ তাকে শারীরিকভাবে ব্যবহার করে আসছিল। একপর্যায়ে মেয়েটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে নিহাদ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখে।
কিছুদিন আগে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নিহাদ ও তার পরিবারের সদস্যরা মেয়েটি এবং তার পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। প্রভাবশালী নিহাদের পরিবারের ভয়ে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
বিষয়টি শাহরাস্তি মডেল থানার নজরে এলে থানা পুলিশ মেয়েটির পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পুলিশের আশ্বাস পেয়ে মেয়েটির মা আছমা বেগম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) রাতে অভিযান চালিয়ে সাবেক প্রেমিক নিহাদকে আটক করে পুলিশ।
মামলার বাদী আছমা বেগম জানান, তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া হুমকি-ধমকি দেওয়ার কারণে সে ভয়ে বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি। তিনি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
শাহরাস্তি মডেল থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও আটক করা হবে। ভুক্তভোগীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন