পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভর্তুকির সারকে প্রণোদনার সার মনে করে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তির অবসান হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের হস্তক্ষেপে প্রকৃত মালিকের কাছে ৪০ বস্তা সার ফেরত দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি তদন্ত করেন। পরে প্রকৃত তথ্য জানার পর সার আটকে রাখা ব্যক্তিরা নিজেদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চান। এভাবেই চলমান সমস্যার নিষ্পত্তি হয়।
জানা গেছে, সরকার কৃষকদের জন্য ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করে, যা কৃষি বিভাগের আওতায় অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। অন্যদিকে প্রণোদনার সার কৃষি বিভাগের মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবক সারগুলোকে প্রণোদনার সার মনে করে আটকে দেন এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। পরে কৃষি বিভাগের তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, বর্তমানে প্রণোদনার কোনো সার বিতরণ কার্যক্রম চলমান নেই। পূর্বের প্রণোদনার সার যথাযথ নিয়মে অনেক আগেই বিতরণ করা হয়েছে। আটক করা সারগুলো ছিল অনুমোদিত এক ডিলারের ভর্তুকির সার।
কৃষি বিভাগ জানায়, কৃষকদের কাছে সরবরাহ করা সব ধরনের সারই সরকারি ভর্তুকির আওতাভুক্ত। তাই বস্তায় ‘ভর্তুকির সার’ লেখা থাকলেও সেটিকে প্রণোদনার সার মনে করার সুযোগ নেই।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে সার আটকে রাখা ব্যক্তিরা তাদের ভুল বুঝতে পারেন।
পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তার পরামর্শে উপস্থিত ব্যক্তিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ভুল তথ্যসম্বলিত পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ৪০ বস্তা সার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, প্রকৃত বিষয় না জেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি যাচাই না করেই প্রণোদনার সার বলে প্রচার করা হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্টরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভ্রান্তিকর পোস্ট সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন