অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিদায়

মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রকাশিত: জুন ৩০, ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
অশ্রুসিক্ত নয়নে প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মনিরুজ্জামানের বিদায়

দীর্ঘ ৪০ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রবীণ শিক্ষক মাওলানা মনিরুজ্জামান। তাঁর অবসর গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন মিলনমেলায় পরিণত হয়। শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় সিক্ত এই আয়োজনের নানা মুহূর্তে উপস্থিত শিক্ষার্থী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অতিথিদের চোখে অশ্রু ঝরতে দেখা যায়।

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার মিলনায়তনে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল মতিন এবং সঞ্চালনা করেন ক্রীড়া শিক্ষক শামসুজ্জামান বাবু।

স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের সুপার আব্দুল জব্বার বলেন, "একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি একটি প্রজন্ম গড়ে তোলেন। মাওলানা মনিরুজ্জামান চার দশক ধরে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেই দায়িত্ব পালন করেছেন।"

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহ-সুপার মাওলানা মেহেদী হাসান, ইংরেজি শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কৃষি শিক্ষক হাফিজুর রহমান, গণিত শিক্ষক আক্কাস আলী, আনিসুর রহমান, আরবি শিক্ষক আমেনা খাতুন, খোদেজা খাতুন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, তৌহিদুল ইসলাম, আবু বকর সিদ্দিক, নুরুল ইসলাম এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ও বাইজিদ প্রমুখ।

স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, মাওলানা মনিরুজ্জামানের হাতে গড়ে ওঠা অসংখ্য শিক্ষার্থী আজ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিক্ষক ও প্রশাসনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত আছেন। একসময় তিনি বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানের জন্য অর্থ সংগ্রহে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। কর্ম, চরিত্র ও আত্মনিবেদনের মাধ্যমে তিনি আগামী প্রজন্মের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের হাতে সম্মাননা ও উপহার তুলে দেন। এ সময় ভালোবাসার এই সম্মান গ্রহণ করে অশ্রুসিক্ত নয়নে মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, আমি কোনোদিন ভাবিনি আমার শিক্ষার্থীরা আমাকে এতটা ভালোবাসবে। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন তোমাদের এই ভালোবাসা ও দোয়া।

সাবেক শিক্ষার্থীরাও তাঁদের প্রিয় শিক্ষকের পিতৃতুল্য স্নেহ, মমতা ও শাসনের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা জীবনে মাওলানা মনিরুজ্জামান শুধু কুরআন, আরবি ও ফিকাহ শিক্ষা দেননি, বরং গড়ে তুলেছেন অসংখ্য সৎ ও আদর্শবান মানুষ। তাঁর বিদায়ের মধ্য দিয়ে দুধবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।

জেএইচআর