টাঙ্গাইল পৌর এলাকার গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু (৫১) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এক মসজিদের মুয়াজ্জিন ও এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.এস.এম. মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন (৪২) এবং স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকার (৪৫)। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং অপরাধে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা লুটে নেওয়া হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার (২৯ জুন) মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোশারফ প্রথমে হাতুড়ি দিয়ে নাজমা বেগমের মাথায় আঘাত করে। এর পর নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মোশারফ হোসেন নাজমাকে হত্যা করে। অপরাধের প্রমাণ নষ্ট করতে সে ঘরের সিসি ক্যামেরা ভেঙে পার্শ্ববর্তী পুকুরে ফেলে দেয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণ, হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে করে নিয়ে যায়। মোশারফ নিহতের স্বামী শফিউল আলমের পরিচিত হওয়ায় ওই বাসায় প্রায়ই যাতায়াত করত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুব রেজওয়ান।
উল্লেখ্য, গত রবিবার দুপুরে পৌর শহরের শিবনাথ পাড়া এলাকার চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী নাজমা আলমের হাত বাঁধা ও গলায় রশি প্যাঁচানো অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন