রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের (সিএসইসি) ঝুঁকিতে থাকা ও যৌনপল্লীর সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীদার সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণে এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে কর্মজীবী কল্যাণ সংস্থা (কেকেএস)-এর আয়োজনে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটিতে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা প্রদান করেছে ‘দি ফ্রিডম ফান্ড, বাংলাদেশ’।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগ রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল (অতিরিক্ত সচিব) ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- স্থানীয় সরকার বিভাগ রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আখতার জামিল, সহকারী রেজিস্ট্রার জেনারেল (ট্রেনিং ও মনিটরিং) সামিউল ইসলাম রাহাদ, রাজবাড়ী স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো. কল্যাণ চৌধুরী, দি ফ্রিডম ফান্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ খালেদা আক্তার এবং প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সুমনা চৌধুরী।
অনুষ্ঠানটিতে আরও উপস্থিত ছিলেন- দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নিজাম উদ্দিন, কেকেএস-এর সহকারী নির্বাহী পরিচালক ফকীর জাহিদুল ইসলাম রুমন, টিপ প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা মো. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবু নছর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়ার (যৌনপল্লী) মা ও শিশুদের জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করাটা আমাদের জন্য বড় একটি সামাজিক অর্জন। জন্মনিবন্ধন শুধু কাগজের একটি সনদ নয়, এটি প্রতিটি শিশুর আইনি পরিচয় ও রাষ্ট্রীয় অধিকার নিশ্চিত করার মূল ভিত্তি। দেশের কোনো শিশুই যেন জন্মনিবন্ধন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ঘাটতি থাকলেও প্রচলিত বিধিমালার আওতায় বিকল্প পদ্ধতিতে জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও আন্তরিক হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই জন্মনিবন্ধন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করতে হবে। একই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তাদের পরিবারের জন্য জন্মনিবন্ধন ফি মওকুফসহ প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়েও গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হবে। এই মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে যেসকল সরকারি কর্মকর্তা এবং এনজিও প্রতিনিধি সহযোগিতা করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি এখনো অবশিষ্টাংশদের দ্রুত নিবন্ধনের আওতায় আনার তাগিদ দেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীদার সংস্থাগুলোর অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রত্যেক শিশুর জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবমুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। এর আওতায় প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থায় নিবন্ধনের সুযোগ সৃষ্টি, মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন