নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও হাসপাতালের রোগীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি সময়ে বিদ্যুৎ সংকট সবচেয়ে বেশি প্রকট। পাশের উপজেলা ও জেলার তুলনায়ও গুরুদাসপুরে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, উপজেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু কয়েক দিন আগেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছিল মাত্র ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট। বর্তমানে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিক পরিস্থিতি এখনো ফেরেনি।
উপজেলায় তিনটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে পৌরসভার উত্তর নাড়িবাড়ি উপকেন্দ্রটি সবচেয়ে বড়। ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা থাকলেও ট্রান্সফরমারের ত্রুটি এবং ঢাকা থেকে পরিচালিত স্ক্যাডা (SCADA) নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে কাঙ্ক্ষিত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এই উপকেন্দ্রের আওতায় প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এ ছাড়া নয়াবাজার উপকেন্দ্রের সক্ষমতা ৭ মেগাওয়াট এবং আলাইপুর উপকেন্দ্রের সক্ষমতা ৩ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, তিনটি উপকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে উপজেলার ২২ মেগাওয়াট চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উত্তর নাড়িবাড়ি উপকেন্দ্রের স্ক্যাডা নিয়ন্ত্রণ ঢাকা থেকে নাটোরে স্থানান্তর এবং বিকল ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপন করা গেলে গুরুদাসপুরের বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই দূর হবে। নতুন একটি ট্রান্সফরমার ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে এটি স্থাপন করা হলে গ্রাহকসেবা আরও উন্নত হবে।
এদিকে গ্রীষ্মকালীন অতিরিক্ত চাহিদা এবং ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে বিদ্যুৎ ব্যবহারের চাপ বিবেচনায় আরও ৮ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ চেয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গুরুদাসপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ওবাইদুল্লাহ আল মাসুম স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজও বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেন।
গত মাসে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ স্ক্যাডা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নাটোরে স্থানান্তর এবং দ্রুত ট্রান্সফরমার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. ওবাইদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ওফিসিয়ালি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পেলেও বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে উত্তর নাড়িবাড়ি উপকেন্দ্রের স্ক্যাডা নিয়ন্ত্রণ নাটোর থেকে পরিচালনার ব্যবস্থা করা এবং নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হলে গুরুদাসপুরের বিদ্যুতের ঘাটতি অনেকাংশে দূর হবে। নতুন ট্রান্সফরমার এসে গেছে, দ্রুতই এটি চালু করা হবে।
দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্ষুদ্র শিল্পকারখানা, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত স্ক্যাডা নিয়ন্ত্রণ স্থানান্তর, নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন