কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, নিহত বেড়ে ৯

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ৬, ২০২৬, ১০:৩৩ এএম
কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধস, নিহত বেড়ে ৯

কক্সবাজারে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পৃথক চারটি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সহযোগিতায় নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া অন্তত একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার ভোরে ক্যাম্প প্রশাসন সূত্র জানায়, রাত ৩টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে একটি বসতঘর মাটিচাপা পড়ে। এতে চারজনের মৃত্যু হয় এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন- আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭), তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং তার ছোট ভাই হারুনুর রশিদ (৩)।

এর আগে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে চাপা পড়ে একটি বসতঘর। এতে নিহত হন মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস। উদ্ধারকারীরা ঘটনাস্থল থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

একই রাতে, রাত পৌনে ২টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে মারা যায় সাত বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশু একরাম। সে ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।

এদিকে রাত ৩টার দিকে কক্সবাজার শহরের লাইট হাউস এলাকায় পাহাড়ধসের আরেক ঘটনায় আলী আকবর (৫০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ ডলার ত্রিপুরা জানান, দিনভর ভারী বৃষ্টির পর রাতেও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন ক্যাম্পে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। প্রথমে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়। পরে ডিএমসি কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে ১১ নম্বর ক্যাম্পে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, ১১ নম্বর ক্যাম্পে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা চারজনকে উদ্ধার করেছিলেন। তবে তাদের সবাই ঘটনাস্থলেই মারা যান। ফলে সেখানে ফায়ার সার্ভিসের অতিরিক্ত উদ্ধার তৎপরতার প্রয়োজন হয়নি। অন্যদিকে ১৫ নম্বর ক্যাম্পে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যার মধ্যে দুজনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস এবং একজনকে স্থানীয়রা বের করে আনেন।

ডলার ত্রিপুরা আরও জানান, ডিএমসি সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী ১১ নম্বর ক্যাম্পে চারজন, ১৫ নম্বর ক্যাম্পে তিনজন এবং ৭ নম্বর ক্যাম্পে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শহরের লাইট হাউস এলাকায় আরও একজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

টানা বৃষ্টির কারণে নতুন করে পাহাড়ধসের আশঙ্কা থাকায় পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী আরও দুই দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

এএন