প্রকৃতিতে এখন আষাঢ় মাস। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে প্রসিদ্ধ ভৈরব পৌর শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বসতবাড়ি, দোকানপাট, কাঁচাবাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়েছে ময়লাযুক্ত পানি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষসহ স্থানীয় পৌরবাসী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রকল্পের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিগত ১৭ বছরে ড্রেন নির্মাণ ও খাল খনন কাজে মোটা অঙ্কের অর্থ হরিলুট করা হয়েছে। প্রতি বছর কার্যক্রম চললেও ফলাফল শূন্যের কোঠায়। পৌর এলাকার প্রধান সড়ক দুর্জয় মোড় থেকে বাজার রোড, পৌর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমলপুর, জগন্নাথপুরসহ মনমারা ব্রিজ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
এইদিকে সারা বছর নগরীর বিভিন্ন সড়কে ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজ করা হয়। প্রতি বছর লোক দেখানো খাল-বিল পরিষ্কার করা হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে ভৈরব পৌরসভার সংশ্লিষ্টরা মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করছেন। অথচ তা কোনো কাজেই আসছে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবদুর রউফ আক্ষেপ করে বলেন, সারা বছর নগরীর বিভিন্ন ড্রেনেজ উন্নয়ন কাজ করা হয়। জলাবদ্ধতা নিরসনে ভৈরব পৌরসভা কর্তৃপক্ষ মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করছে, কিন্তু তা কোনো কাজে আসছে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন সড়ক তলিয়ে যায়।
অনেকে মনে করছেন, জলাবদ্ধতার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাই প্রধান কারণ। তারা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেন পরিষ্কার না করার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে দৈনিক আমার সংবাদ ভৈরব প্রতিনিধি-কে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন বলেন, এক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ জেলা সহ বন্দরনগরী ভৈরবে অতিবৃষ্টি হলে এ সমস্যাটা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে ইউএনওদের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার যে ত্রুটি রয়েছে, তা দ্রুত ঠিক করতে হবে।
এছাড়াও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক কে. এম. মামুনুর রশীদ বলেন, ভৈরবে অল্প বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পৌরসভা অঞ্চলের বেশিরভাগ খাল-বিল অনেকটাই ব্যক্তিমালিকানায় চলে গেছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা রয়েছে, তা নতুন করে বাস্তবায়ন করতে হবে। ভালো কাজ করতে হলে পৌরবাসীকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সাময়িকভাবে যে সড়কগুলো অব্যবস্থাপনায় রয়েছে সেগুলো মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রকল্পের নানা কাজ ইতিমধ্যে হাতে নেওয়া হয়েছে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন