সভ্য ও উন্নত সমাজ গড়তে নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

রাকিবুল হাসান, রাজশাহী প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
সভ্য ও উন্নত সমাজ গড়তে নারী-শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে: রাজশাহীর জেলা প্রশাসক

একটি সভ্য, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ার প্রধান পূর্বশর্ত নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। 

মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সপ্তাহ’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, নারী ও শিশুরা শুধু পরিবারের সদস্য নন, তারা রাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সবার দায়িত্ব। সম্প্রতি শিশু রামিসাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার বিচার চাইতেও শঙ্কা প্রকাশ করে, যা উদ্বেগজনক। তবে সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

তিনি বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, মানবপাচার ও অ্যাসিড সন্ত্রাস প্রতিরোধে কঠোর আইন রয়েছে। কিন্তু শুধু আইন প্রয়োগ করেই এই সমস্যা নির্মূল করা সম্ভব নয়। সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধীদের সামাজিকভাবে বয়কট করতে হবে এবং ঘৃণিত অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, যৌথ পরিবারের পরিবর্তে একক পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক শিশু প্রয়োজনীয় নজরদারি ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল আসক্তি ও মাদকের বিস্তারও সামাজিক অবক্ষয় বাড়াচ্ছে। সামাজিক সম্মানের ভয়ে নির্যাতনের ঘটনা গোপন না করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকার নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করছে। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজ এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহা. সবুর আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান এবং ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহ. আনোয়ারুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ইসরাত জাহান। আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।

জেএইচআর