ভারী বর্ষণে পটিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাঁটু পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৭, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
ভারী বর্ষণে পটিয়ার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, হাঁটু পানি মাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত

টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় চরম জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে মঙ্গলবার বিকেলে অনুষ্ঠিতব্য মাধ্যমিক স্তরের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে।

আজ দুপুর ১টার দিকে পৌর সদরের রামকৃষ্ণ মিশন সড়ক এবং খলিলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকতে দেখা যায়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই শিক্ষার্থীরা হাঁটু পানি মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত দুই দিন ধরে পটিয়াসহ পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চলে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। এতে উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত শ্রীমাই খালসহ বিভিন্ন খালের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌর সদর ছাড়াও কেলিশহর, হাইদগাঁও, কচুয়াই, খরনা, ভাটিখাইন, ছনহরা, ধলঘাট, শোভনদণ্ডী, হাবিলাসদ্বীপ, জিরি, কুসুমপুরা, আশিয়া ও কোলাগাঁও ইউনিয়নের নিচু এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে। অনেক গ্রামীণ সড়কে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যচাষিরা। এতে কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমন বীজতলা ও সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পটিয়া পৌরসভার কয়েকটি ওয়ার্ডে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার আবদুল মান্নানের বাড়ি এলাকার ড্রেন নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলায় ওই এলাকায় পানি জমে সড়ক দিয়ে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

পটিয়া এএস রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকায় উপজেলা প্রশাসনের পরামর্শে মঙ্গলবার বিকেলের অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে পরবর্তী পরীক্ষাগুলো পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

জেএইচআর