ফরিদপুরে অসাবধানতাবশত গিলে ফেলা পাঁচ টাকার একটি কয়েন ৭ বছর বয়সী এক শিশুর পাকস্থলী থেকে সফলভাবে অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা। কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার (অপারেশন) ছাড়াই আধুনিক এন্ডোস্কোপি পদ্ধতির মাধ্যমে কয়েনটি বের করে আনায় স্বস্তি ফিরেছে শিশুটির পরিবারে।
বুধবার সকালে ফরিদপুরের বেসরকারি হ্যাপি হাসপাতালের গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিমাই দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এন্ডোস্কোপি মেশিনের সাহায্যে শিশুটির পাকস্থলী থেকে পাঁচ টাকার কয়েনটি সফলভাবে বের করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুটির নাম অলিপ (৭)। সে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বাসিন্দা সুজন শেখের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
পরিবারের সদস্যরা জানান, খেলাধুলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত অলিপ পাঁচ টাকার একটি কয়েন গিলে ফেলে। পরে পেটে অস্বস্তি ও ব্যথা অনুভব করলে তাকে দ্রুত হ্যাপি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এক্স-রের মাধ্যমে শিশুটির পাকস্থলীতে কয়েন আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
পরবর্তীতে গ্যাস্ট্রো লিভার সেন্টারের চিকিৎসক ডা. নিমাই দাসের নেতৃত্বে একটি দক্ষ মেডিকেল টিম এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে কয়েনটি সফলভাবে অপসারণ করেন। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো কাটাছেঁড়ার প্রয়োজন হয়নি এবং শিশুটি বর্তমানে পুরোপুরি সুস্থ রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ডা. নিমাই দাস বলেন, আধুনিক এন্ডোস্কোপি প্রযুক্তির কারণে বর্তমানে পাকস্থলী বা খাদ্যনালিতে আটকে থাকা বিভিন্ন ধরনের ধাতব বা ক্ষতিকর বস্তু নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ঝুঁকিতে অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি। ছোট শিশুদের নাগালের মধ্যে কয়েন, ঘড়ির ব্যাটারি, পিন বা ধারালো ছোট বস্তু রাখা একদমই উচিত নয়।
শিশুটির বাবা সুজন শেখ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, ছেলে কয়েন গিলে ফেলায় আমরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। আল্লাহর রহমতে এবং চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় কোনো অপারেশন ছাড়াই কয়েনটি বের করা সম্ভব হয়েছে। আমরা চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।
হ্যাপি হাসপাতালের কর্ণধার ডা. সৈয়দ হাসানুল কবীর মিশু বলেন, রোগীদের নিরাপদ, আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। দক্ষ চিকিৎসক ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমরা অত্যন্ত সফলভাবে এই জটিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছি। ভবিষ্যতেও এই ধরনের উন্নত সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করে যাব।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন