মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় চীনা মালিকানাধীন হার্ডওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি বিডি লিমিটেডের শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরিসহ ৬ দফা দাবিতে ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত উপজেলার নবগ্রাম এলাকায় এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন শ্রমিকরা।
পুলিশ ও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের সূত্রে জানা যায়, কারখানাটিতে সরকারি গেজেট অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। এছাড়া ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান, কারখানার এক কর্মকর্তার অপসারণসহ ৬ দফা দাবিতে শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। এসব দাবি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে একাধিক দফা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ মঙ্গলবারও এ বিষয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার সকাল ৮টায় শ্রমিকরা কারখানায় উপস্থিত হলেও কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে তারা ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়ক অবরোধ করলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
পুলিশ কয়েক দফা শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও তারা অবরোধ চালিয়ে যান। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আন্দোলনকারী শ্রমিক আলোয়া বেগম, নাসিমা ও নাজমুলসহ কয়েকজন বলেন, শ্রমের তুলনায় তাদের খুবই কম বেতন দেওয়া হয়। সরকারি গেজেট অনুযায়ী মজুরি কার্যকরের দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানানো হলেও মালিকপক্ষ তা মানছে না। আন্দোলন শুরু হলেই প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা বৈঠকের মাধ্যমে দাবি পূরণের আশ্বাস দেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো অগ্রগতি হয় না। তাই বাধ্য হয়েই তারা সড়কে নেমেছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি কারখানা মালিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির পরিবর্তে মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষা করেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সতেনকান্ত পণ্ডিত ভজন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মিজানুর রহমান লিটনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা ঘটনাস্থলে যান।
তারা যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবিগুলো নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বৈঠকের আশ্বাস দেন। পরে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করলেও কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন।
এরপর স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শুরু হয়। বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৈঠক চলছিল। এ সময় শ্রমিকরাও কারখানার বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যান।
শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক চলছে। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এম জি
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন