আইএইচআর বাস্তবায়নে উদ্যোগের আহ্বান খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের

মো. নুরুল আমিন নুর, খুলনা প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
আইএইচআর বাস্তবায়নে উদ্যোগের আহ্বান খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (আইএইচআর) ২০০৫ বাস্তবায়নে সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন। তিনি বলেছেন, জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না। মহামারি পর্যায়ে যেতে পারে এমন রোগ প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

বুধবার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ‘আইএইচআর (২০০৫) মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার’ শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি ২০০৫ একটি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ২১ বছর পরও ২০২৬ সালে এসে আমরা এখনো অবহিতকরণ পর্যায়ে রয়েছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। করোনা মহামারির সময় এ ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো রয়েছে। তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি কম। বিভিন্ন অংশীজন ও ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়, কার্যক্রম গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া আন্তঃসীমান্ত সংক্রামক রোগ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের যুগে কোনো দেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে পারে না। তাই সংশ্লিষ্ট সব ফোকাল পয়েন্টকে সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সভায় জানানো হয়, যেকোনো ধরনের মহামারি প্রতিরোধ করাই আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির মূল উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ আইএইচআর (২০০৫)-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা তৈরি ও বজায় রাখার অঙ্গীকার করেছে।

সভায় আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, চিকিৎসক ও নির্দিষ্ট হাসপাতালের ব্যবস্থা থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো রোগের সংক্রমণ শনাক্ত হলে দুই ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফোকাল পয়েন্টকে অবহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, সীমান্তরক্ষা, নিরাপত্তা ও খাদ্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।

অ্যাডভোকেসি সভায় বক্তব্য দেন বিজিবি খুলনা সেক্টরের পরিচালক লে. কর্নেল অনুপ কুমার বিশ্বাস, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আশনাফুন্নাহার, খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক এবং আনসার ও ভিডিপির উপপরিচালক এএসএম আজিম উদ্দিন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ্বাস। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি কর্মকর্তা ডা. ইনিন ইসিবোর।

অ্যাডভোকেসি সভায় খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় ডিজিএইচএস এ সভার আয়োজন করে।

এম জি