চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

আশরাফুল আলম, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
চুয়াডাঙ্গায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঢুকে এক নারী প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক অভিভাবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সিসিটিভি ফুটেজ আকারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক বর্তমানে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের ফার্মপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। লাঞ্ছনার শিকার কাবেরী করিম ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ফার্মপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামসউর রহমান শুভ বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। তিনি শুরু থেকেই অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে থাকেন এবং একপর্যায়ে অফিসকক্ষে বসে থাকা প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিমকে আচমকা চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক ও কর্মচারী তাকে থামিয়ে কক্ষের বাইরে নিয়ে যান।

ঘটনার পটভূমি সম্পর্কে জানা গেছে, অভিযুক্ত সামসউর রহমান শুভ ও মিতালী খাতুন দম্পতির মেয়ে বিসমাহ জান্নাত ঐশ্বর্য (৯) ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। সকালে বিদ্যালয়ের সমাবেশ (অ্যাসেম্বলি) চলাকালে এক সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলার কারণে তাকে শাসন করেন প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম। এ সময় শিশুটির গালে তিনি একটি চড় দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষুব্ধ বাবা বিদ্যালয়ে এসে সরাসরি প্রধান শিক্ষকের ওপর চড়াও হন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফার্মপাড়ার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবদুর রহমানের ছেলে অভিযুক্ত শামসউর রহমান শুভ বলেন, আমি বাড়ি যাওয়ার পথে মেয়েকে কান্না করতে দেখি। জিজ্ঞাসা করলে সে বলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক তাকে মেরেছে। এ সময় রাগে ক্ষোভে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে চড় মেরেছি। আমি আমার এই আচরণের জন্য অনুতপ্ত।

লাঞ্ছনার শিকার প্রধান শিক্ষক কাবেরী করিম বলেন, আমি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের যেমন আদর করি, তেমনি প্রয়োজনে একটু শাসনও করতে হয়। এ কারণেই আলতো করে একটা চড় মেরেছিলাম। কিন্তু এই সামান্য কারণে একজন অভিভাবক আমার অফিসকক্ষে ঢুকে আমার গায়ে হাত তুলবেন, এটা আমার ভাবনার বাইরে ছিল। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ে যেতে আমি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছি এবং আবারও আমার ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা কেদারগঞ্জ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোয়াইব হোসেন বলেন, এ ধরনের আপত্তিকর আচরণ আমরা কোনো অভিভাবকের কাছ থেকে আশা করি না। এমন ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে আমরা বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মানুষ করব কীভাবে? আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষকের পাশে থেকে আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করব।

এই বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনা জানার পর বিদ্যালয়ে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছিল। পরে আমরা নিশ্চিত হই যে প্রধান শিক্ষককেও লাঞ্ছিত করেছেন ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক। স্কুলের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অহীন্দ্র কুমার মন্ডল জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর জানা ছিল না। তবে ঘটনা যদি সত্য হয়, তবে এটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক। অফিসিয়াল অভিযোগ পেলে নিয়ম অনুযায়ী অভিযুক্ত অভিভাবকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেএইচআর