বহরপুর সরকারি হাটের বেহাল দশা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ

রুবেল হোসেন মিয়া, বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০৩:১৭ পিএম
বহরপুর সরকারি হাটের বেহাল দশা, জরাজীর্ণ অবকাঠামো ও জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর সরকারি হাট একসময় এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ছিল। তবে বর্তমানে সরকারি এই হাটটি জরাজীর্ণ অবকাঠামো, তীব্র জলাবদ্ধতা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বহরপুর সরকারি হাটে প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাট বসে। এই দুই দিনে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য এখানে আসেন। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনাকাটার উদ্দেশ্যে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ এখানে সমবেত হন। কিন্তু বাজারের বেহাল পরিবেশে তাঁদের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের বিভিন্ন স্থানের ছাউনি ভেঙে গেছে এবং টিনে বড় বড় ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে ব্যবসায়ীদের পণ্যসামগ্রী নষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ বাজারে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা পানি জমে থাকায় চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় বাজারের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ড্রেনে নোংরা পানি জমে পরিবেশ অস্বান্তর হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পানি জমে থাকায় মশার বংশবিস্তার বেড়ে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার তীব্র ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আয়াত আলী বলেন, মাছ বাজারের মধ্যে যাওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতিই নেই। পচা পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। পা থেকে শুরু করে কাপড়চোপড় পর্যন্ত নোংরা পানি লেগে যায়। বাজার করার পরিবেশ কখনোই এমন হতে পারে না। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

দীর্ঘদিন ধরে বাজারের প্রয়োজনীয় সংস্কার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সরকারি এই হাটটি দিন দিন আরও জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের।

এই বিষয়ে বহরপুর বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান শেখ বলেন, আমরা ইউএনও মহোদয় ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে বিষয়টি জানিয়েছি। ইজারাদারদেরও একাধিকবার বলেছি। কিন্তু তাঁরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। আমাদের তহবিলেও কোনো অর্থ নেই। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে বহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিমের সঙ্গেও আলোচনা করছি।

তবে এই বিষয়ে বহরপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি কালাম বিশ্বাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করছি। পাশাপাশি যাঁরা বাজার ইজারা নিয়েছেন, তাঁদেরও বাজারের পরিবেশ দ্রুত সুন্দর ও ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমি এ বিষয়ে চিঠি দিচ্ছি। যদি দ্রুত মাছ বাজারসহ পুরো বাজারের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন না করা হয়, তবে ইজারাদারদের জমা রাখা জামানতের অর্থ দিয়েই প্রয়োজনীয় সংস্কার ও মেরামতের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

জেএইচআর