তালতলীতে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২৬, ০২:৪৮ পিএম
তালতলীতে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষক প্রশিক্ষণ ও উপকরণ বিতরণ

উপকূলীয় অঞ্চলে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোলপাতার গুড় উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বরগুনার তালতলীতে কৃষক প্রশিক্ষণ ও আধুনিক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাতের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে উপজেলার বেহালা এলাকার ৯০ জন গোলপাতা চাষী ও গুড় উৎপাদক অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে চাষীদের মাঝে গুড় উৎপাদনের আধুনিক উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে আধুনিক উৎপাদন কৌশল এবং স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে গোলপাতার গুড় তৈরির নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী কৃষিশিল্পকে টিকিয়ে রাখা এবং এর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। সরকারের এই বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে স্থানীয় চাষীরা আরও উন্নত পদ্ধতিতে মানসম্মত ও সুস্বাদু গুড় উৎপাদন করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক এবং পরিচালক ড. মাহবুব রব্বানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস ও বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট বরিশাল উপকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রতন কুমার গনপতি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ইলিয়াস এবং সুবিধাভোগী চাষীরা উপস্থিত ছিলেন।

সুবিধাভোগী চাষি অবনী ভূষণ হাওলাদার, উশা রানী, কৃষ্ণ কান্ত বড়াল ও মিলন ঢালী বলেন, সরকার থেকে আমাদের যে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উপকরণ দেওয়া হয়েছে, এতে আমাদের শ্রম অনেক লাঘব হবে এবং গুড়ের স্বাদ ও রং উভয়ই চমৎকার হবে। আমরা আমাদের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটিকে টিকিয়ে রাখতে চাই। সরকারের এই মহতী উদ্যোগ ও সহায়তা আমাদের মতো দরিদ্র চাষিদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি গুড় উৎপাদনে আমাদের সাহস ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেএইচআর