টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, বন্যা ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বান্দরবানের লামা উপজেলায় জীবনহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গভীর রাতেও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে লামা উপজেলা তথ্য অফিস। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বন্যাকবলিত ও পাহাড় ধসের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
লামা তথ্য অফিসের তথ্যমতে, বর্তমানে লামা উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, তথ্য অফিস এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত ও বন্যাকবলিত ৬০০ মানুষের মাঝে খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে এবং রাতের খাবার বিতরণের প্রস্তুতি চলছে।
এ বিষয়ে লামা উপজেলা সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাশেদ বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে লামা উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে উপজেলায় মোট ৫৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে লামা পৌরসভার ৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩০৮ জন এবং লামা সদর ইউনিয়নের আশ্রয়কেন্দ্রে ১১০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সব মিলিয়ে লামা উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রসমূহে বর্তমানে মোট ৪১৮ জন মানুষ অবস্থান করছেন।
তিনি আরও জানান, লামা পৌরসভার প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকা বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। ইউনিয়নসমূহের মধ্যে আজিজনগর ইউনিয়নে একই পরিবারের ৩ জনসহ মোট ৫ জন পাহাড় ধসে মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যান্য ইউনিয়নসমূহও কমবেশি পাহাড় ধস ও বন্যার শিকার হয়েছে।
জেএইআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন