হাটহাজারীতে আজম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ভাই গ্রেপ্তার

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
হাটহাজারীতে আজম হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ভাই গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় মেয়ের সামনে মোহাম্মদ আজম (৩৮) নামে এক দর্জিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১০ ঘণ্টার মধ্যে মেখল ইউনিয়ন থেকে পলাতক মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও নিহতের বড় ভাই মো. আলী আকবরকে (৫৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার গড়দুয়ারা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে আজ সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার মেখল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খলিফা পাড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আজম পেশায় একজন দর্জি ছিলেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে মোহাম্মদ আজমের সাথে তার বড় ভাই আলী আকবরের বিরোধ চলছিল। সকালে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি জমিতে বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা মাছ ধরতে যান আজম। এ সময় তার সাথে তার মেয়েও ছিল। ওত পেতে থাকা স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদার ও তার দলবল ধারালো অস্ত্র এবং আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হঠাৎ আজমের ওপর হামলা চালায়। মেয়ের সামনেই তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে তারা।

নিহতের স্ত্রীর দাবি, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আজমকে পথের কাঁটা সরাতে স্থানীয় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ দিদারকে ১ লাখের বেশি টাকা সুপারি (চুক্তি) দিয়েছিলেন বড় ভাই আলী আকবর। বিষয়টি আজম আগেই টের পেয়েছিলেন এবং পরিবারকে জানিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের মেয়ে জানায়, বাবার সাথে মাছ ধরতে গিয়েছিল। হঠাৎ দিদার তার লোকজনকে নিয়ে এসে বাবাকে অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ শুরু করে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, আসামি আলী আকবর গড়দুয়ারা এলাকায় তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে আছেন। পুলিশের তাৎক্ষণিক অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ওসি আরও জানান, মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

জেএইচআর