ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মসজিদ এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা

নাজমুল হক মুন্না, উজিরপুর (বরিশাল) প্রকাশিত: জুলাই ১১, ২০২৬, ১২:০৫ পিএম
ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা মসজিদ এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম দর্শনীয় স্থাপনা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নের চাংগুরিয়া গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে নির্মিত বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও ঈদগাহ কমপ্লেক্স, যা ‘গুঠিয়া মসজিদ’ নামে অধিক পরিচিত, বর্তমানে দেশের অন্যতম দর্শনীয় ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এই মসজিদ পরিদর্শনে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু নিজস্ব অর্থায়নে প্রায় ১৪ একর জমির ওপর এ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেন। ২০০৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০০৬ সালে এর কাজ সম্পন্ন হয়।

মসজিদটির স্থাপত্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঐতিহাসিক মসজিদের নকশার ছাপ রয়েছে। এতে রয়েছে প্রায় ১৯৩ ফুট উচ্চতার একটি মিনার, ছোট-বড় ২০টি গম্বুজ, মার্বেল পাথরের কারুকাজ, দৃষ্টিনন্দন ক্যালিগ্রাফি, আধুনিক ঝাড়বাতি এবং উন্নত সাউন্ড সিস্টেম। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জেনারেটরের ব্যবস্থাও রয়েছে।

কমপ্লেক্সে প্রায় ২০ হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ঈদগাহ, মরহুমা মালেকা বেগম হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা, বড় পুকুর, লেক, ফুলের বাগান, ডাকবাংলো, গাড়ি পার্কিং, হেলিপ্যাড এবং কবরস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গুঠিয়া মসজিদকে কেন্দ্র করে এলাকায় পর্যটন ও ধর্মীয় ভ্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে আশপাশে হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসা গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ধর্মীয় উপাসনার পাশাপাশি মনোরম পরিবেশ ও ব্যতিক্রমী স্থাপত্যশৈলীর কারণে গুঠিয়া মসজিদ এখন বরিশালের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে।

এএন