টানা এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে নরসিংদী জেলার প্রায় ৫ শত হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া নরসিংদী পৌর শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা চরম জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। বাসাবাড়িতে ময়লা পানি ঢুকে পড়ার কারণে পৌরবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নরসিংদী জেলায় ১৫৬ দশমিক ৯ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সরেজমিনে নরসিংদী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে মানুষের বাসাবাড়িতে হাঁটু পর্যন্ত পানি উঠে গেছে এবং সামগ্রিক জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
শহরের জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে- ব্রাহ্মণপাড়া, কাউরিয়াপাড়া, সাটিরপাড়া, চৌয়ালা, নাগরিয়াকান্দি, ঘোষপাড়া, বেপারীপাড়া, বানিয়াছল, বীরপুর, ব্রাহ্মন্দী, বিলাসদী ও ভেলানগর।
এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করার কারণে এই কৃত্রিম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
নরসিংদী পৌর প্রশাসক মোসা. নাদিরা আক্তার জানান, পৌরসভার ড্রেনেজ সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দ্রুত দূর করা সম্ভব নয়। তবে তারা সাধ্যমতো ড্রেনের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। অনেক জায়গায় কিছু লোক রাস্তার পাশে মাটি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাখায় পানি নামতে পারছে না, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালকসহ নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষ। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো তীব্র আর্থিক সংকটে পড়ে বর্তমানে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন।
নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো: আজিজল হক বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার প্রায় ৫ শত হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে আউশ ধান, রোপা-আমন ধানের বীজতলাসহ শাক-সবজির বাগানের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।
ফসলি জমি থেকে পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও সরকারি সহযোগিতা দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বর্তমানে নরসিংদী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামগ্রিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন