টাঙ্গাইলে জাল বা নকল টাকা লেনদেন করার অপরাধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় ওয়াজ উদ্দিন নামে এক আসামিকে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. হাফিজুর রহমান ওই দণ্ডাদেশ দেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামি ওয়াজ উদ্দিন (৪৮) টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ফতেপুর গ্রামের আছর উদ্দিনের ছেলে।
টাঙ্গাইলের পিপি অ্যাডভোকেট মো. শফিকুল ইসলাম রিপন জানান, বিগত ২০২১ সালের ২৭ জুন সকালে ওয়াজ উদ্দিন একটি দোকানে যান। সেখানে তিনি চারটি ‘স্পিড’ (কোমল পানীয়) কিনে দোকানদারকে এক হাজার টাকার একটি নোট দেন। নোটটি দেখে জাল বা নকল মনে হলে দোকানদার উপস্থিত লোকজনকে দেখান।
উপস্থিত সাধারণ মানুষও নোটটি জাল বলে সন্দেহ করেন। সঙ্গে সঙ্গে দেলদুয়ার থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ এসে ওয়াজ উদ্দিনকে আটক করে। এ সময় তাঁর দেহ তল্লাশি করে আরও চারটি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর দেলদুয়ার পশ্চিম পাড়া গ্রামের দোকানদার জয়েন উদ্দিন বাদী হয়ে দেলদুয়ার থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ প্রকাশ্য ও গোপনে তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২ মার্চ আসামি ওয়াজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয়।
টাঙ্গাইলের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক মো. হাফিজুর রহমান দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেন। রায়ে আসামি ওয়াজ উদ্দিনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জনাকীর্ণ আদালতে রায় ঘোষণার সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে সরাসরি টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। উল্লেখ্য, আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. কামরুজ্জামান তরফদার (খোকন)।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন