গোয়ালন্দে তিন সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে ফুলজানের মানবেতর জীবন

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রকাশিত: জুলাই ১৫, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
গোয়ালন্দে তিন সন্তান নিয়ে জরাজীর্ণ ঘরে ফুলজানের মানবেতর জীবন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে জরাজীর্ণ একটি টিনের ঘরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৮৫ বছর বয়সী ফুলজান বিবি। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ে, আর তখন চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে। এ অবস্থায় সরকারের কাছে একটি নিরাপদ ঘরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ফুলজান বিবি গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিনপাড়া গ্রামের মৃত গিরানি শেখের স্ত্রী। প্রায় দুই যুগ আগে তাঁর স্বামী মারা যান। বর্তমানে তিনি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছেলে নুর ইসলাম (৩২), এক মেয়ে এবং এক নাতনিকে নিয়ে বসবাস করছেন।

বুধবার দুপুরে রিয়াজ উদ্দিনপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরের ভাঙা চৌকিতে অসহায়ভাবে শুয়ে আছেন ফুলজান বিবি। ঘরের বেড়া প্রায় ভেঙে গেছে। ভাঙাচোরা টিন দিয়ে কোনোমতে ঘরটি টিকিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে রোদ-বৃষ্টি সহজেই ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। বয়সের ভার ও ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত ফুলজান বিবি ঠিকমতো কথাও বলতে পারেন না। প্রতিদিন সকালে তাঁর মেয়ে ও নাতনি জীবিকার তাগিদে ভিক্ষা করতে বেরিয়ে যান।

ফুলজানের ছেলে নুর ইসলাম জানান, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিভিন্ন চায়ের দোকান ও অন্যান্য স্থানে দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালান। তিনি অবিবাহিত। সামান্য আয়ে মা, বোন ও ভাগনির ভরণপোষণের পাশাপাশি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে তাঁদের। ভাতের ব্যবস্থা করাই যেখানে কঠিন, সেখানে নতুন ঘর নির্মাণ করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব।

তিনি আরও বলেন, তাঁর মা এখনো বয়স্ক ভাতা পান না। পরিবারের আড়াই শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমিতে সরকার একটি ঘর নির্মাণ করে দিলে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন। তাই মায়ের জন্য একটি ঘরের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফুলজান বিবি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁর অসুস্থ ছেলে অনেক কষ্ট করে পরিবারের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারিভাবে একটি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলে পরিবারটি উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা হয়েছে। পরিবারটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে এবং জীবিকার জন্য ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে জড়িত বলেও শুনেছেন। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন এবং পরিবারটিকে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি ফুলজান বিবির ঘর মেরামত বা সংস্কার এবং তাঁকে সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

এম জি