বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, ‘‘আগামী ১৮ জুলাই বরিশালের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দান মানুষের ঢলে মুখরিত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, গণমানুষের দীর্ঘদিনের দাবি আদায় এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুগুলোকে জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতেই এই বিভাগীয় সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।’’
বুধবার বিকেলে সমাবেশস্থল বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দান পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে আগামী ১৮ জুলাই বরিশালের কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশ।
সমাবেশকে ঘিরে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার সমাবেশস্থলের সার্বিক প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সমাবেশটি একটি ঐতিহাসিক গণসমাবেশে রূপ নেবে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং দক্ষিণাঞ্চলের দীর্ঘদিনের উন্নয়নবঞ্চনার বিষয়গুলো জনগণের প্রত্যাশা ও দাবির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এসব যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনগণের মতামত ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতেই এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।’’
পরিদর্শনের সময় নেতৃবৃন্দ সমাবেশের মূল মঞ্চ নির্মাণকাজ, আগত মানুষের বসার ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার পরিকল্পনা, স্বেচ্ছাসেবক টিমের দায়িত্ব বণ্টন, যানবাহন পার্কিং, চিকিৎসাসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা, নারী, শিশু ও প্রবীণদের জন্য পৃথক সুবিধা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে মতবিনিময় করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে সমাবেশে আগত মানুষের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, ‘‘বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ব্যাপক গণসংযোগ, লিফলেট বিতরণ, মতবিনিময় সভা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং প্রস্তুতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সমাবেশকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।’’
জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের দাবিকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগর আমির মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বরিশাল জেলা আমির মাওলানা আব্দুল জব্বার, বরিশাল অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যাপক শাহ আলম, এবি পার্টির বরিশাল মহানগর ও জেলা সমন্বয়ক জি. এম. রাব্বি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) বরিশাল জেলা সভাপতি মো. মনির হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির বরিশাল মহানগর সভাপতি এস. এম. সোহেল মাহমুদ, বরিশাল মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মাহমুদ হোসেন দুলালসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শন শেষে নেতারা ১৮ জুলাইয়ের বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের সচেতন নাগরিকদের যথাসময়ে সমাবেশস্থলে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এই সমাবেশ দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন, জনস্বার্থ এবং গণমানুষের ন্যায্য দাবির পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ গণমঞ্চ হিসেবে ভূমিকা রাখবে।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন