কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট উপশহরে অনলাইন জুয়া ও মাদকের কারণে উঠতি বয়সী তরুণ ও যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। এর ফলে যেমন তাদের পড়াশোনা ও কর্মজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে বহু পরিবার।
মোবাইলে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠছে একাধিক অনলাইন জুয়ার পেজ। ফেসবুক আইডি, পেজ, গ্রুপ, ওয়েবসাইট ও মোবাইলভিত্তিক অ্যাপের মাধ্যমে চলছে এসব জুয়া। বর্তমানে Blackjack, Roulette, 1xbet, 22bet, Mostbet, Betwinnerসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় প্ল্যাটফর্মে আসক্ত হয়ে পড়ছে তরুণরা। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেকে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আসক্ত যুবক জানান, আড্ডার ছলে শুরু হওয়া এই নেশা একসময় সর্বস্বান্ত করে দেয়। বাজিতে দ্রুত টাকা পাওয়ার লোভে তরুণরা এই অন্ধকারের জগতে পা বাড়ায়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, রাষ্ট্রীয়ভাবে এই অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তার রোধ করা না গেলে যুবসমাজ মারাত্মক অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। তারা এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলের ও পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পুলেরঘাট এলাকার কিছু প্রভাবশালী ও চিহ্নিত ব্যক্তি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আদর্শ পাড়ার মো. সম্রাট, জালুয়াপাড়ার মো. আদিল, পুলেরঘাট বাজারের উত্তরের শুভ এবং ষাইটকাহন এলাকার বিপুলসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিগত রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এই চক্রটি ফের সক্রিয় হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে এবং প্রতিবাদকারীদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হুমকি দিচ্ছে।
এপ্রসঙ্গে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, পুলিশের সাইবার টিম এ বিষয়ে কাজ করছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝেই অভিযান চালিয়ে আটক করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন