বেনাপোল-ঢাকার মধ্যে চলাচলকারী আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ও খুলনা-রাজশাহীর মধ্যে চলাচলকারী কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতি, যাত্রীছাউনি এবং ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবিতে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলী রেলস্টেশনে মানববন্ধন ও গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এই কর্মসূচির আয়োজন করেন উথলী রেলস্টেশন ব্যবহারকারী ট্রেনযাত্রী ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধন চলাকালে বিকেল ৫টার পর খুলনাগামী ৭২৮ ডাউন রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেনটি উথলী রেলস্টেশনে পৌঁছালে বিক্ষুব্ধ জনতা সেটি কিছুক্ষণ আটকে রেখে দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে বিকেল ৫টা ১৩ মিনিটে ট্রেনটি উথলী রেলস্টেশন থেকে পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশের অধিকাংশ জায়গায় উপজেলা পর্যায়ের স্টেশনগুলোতে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ রয়েছে। জীবননগর উপজেলার দুটি রেলস্টেশনের মধ্যে একমাত্র সচল স্টেশন হলো উথলী। জনগুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনে আন্তঃনগর ট্রেনের স্টপেজ দিলে জীবননগর উপজেলাবাসীসহ পার্শ্ববর্তী মহেশপুর ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবেন। এতে রেলের আয়ও বাড়বে। সার্বিক দিক বিবেচনা করে অনতিবিলম্বে এই যৌক্তিক দাবিগুলো মেনে নেওয়ার জন্য তাঁরা রেল কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। দ্রুত দাবি না মানা হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
মানববন্ধনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় হাজারখানেক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, জীবননগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকা, যশোর, খুলনা ও রাজশাহী রুটে যাতায়াতের জন্য এই দুটি ট্রেনই সবচেয়ে সুবিধাজনক। কিন্তু উথলী স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় তাঁদের দর্শনায় গিয়ে ট্রেনে উঠতে হয়, যা অত্যন্ত ভোগান্তির।
উল্লেখ্য, উথলী রেলস্টেশনে সম্প্রতি ১,২০০ ফুটের একটি নতুন ও আধুনিক প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে আশপাশের কয়েকটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। তাছাড়া উথলী রেলস্টেশন এলাকায় নিরাপত্তার কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই এবং মানুষজন দিনরাত নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন