বাবার দাফন শেষে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় ইকন

আমার সংবাদ ডেস্ক প্রকাশিত: জুলাই ২২, ২০২৬, ১০:২০ এএম
বাবার দাফন শেষে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় ইকন

বিকেলে বাবার দাফন সম্পন্ন করে রাতেই বই হাতে ফিরতে হয়েছে এটিএম বুথের ডিউটিতে। আর পরদিন সকালে বসতে হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে এমন এক নির্মম সংগ্রামের গল্প এখন বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের।

বাগেরহাট শহরের মুনিগঞ্জ মেডিকেল স্কুল রোড এলাকার বাসিন্দা সদ্য প্রয়াত ইসরাফিলাড়িয়ার ছেলে ইকন। বাবাকে হারানোর শোক বুকে নিয়েই তাঁকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে সংসারের দায়িত্ব, চাকরি এবং পড়াশোনা।

মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী ইসরাফিলাড়িয়া। সকাল ৬টার দিকে তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে রেখে গেছেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে সংসার চালাতেন। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গোপালগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়। ইসরাফিলের বড় ছেলে ইমন একসময় বাবাকে সহযোগিতা করতে মোটরসাইকেল চালাতেন। তবে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। ফলে পরিবারের একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে ইকন।

ইকন চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তিনি বাগেরহাট খান জাহান আলী ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের খরচ চালাতে বাগেরহাট শহরের রেলরোড এলাকায় কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে রাতের শিফটে খণ্ডকালীন চাকরি করেন।

বাবার দাফন শেষে মঙ্গলবার রাতেই তিনি কর্মস্থলে ফিরে যান। চোখে বাবাকে হারানোর অশ্রু আর বুকভরা শোক নিয়ে রাত ১০টার দিকেও তাঁকে বুথে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। কারণ পরদিন, ২৩ জুলাই তাঁর এইচএসসি পরীক্ষার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষা।

একদিকে প্রিয় বাবাকে হারানোর অসহনীয় বেদনা, অন্যদিকে মানসিক ভারসাম্যহীন বড় ভাই, সংসারের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ গড়ার সংগ্রাম—সব মিলিয়ে প্রতিকূলতার মধ্যেও ইকনের এই দায়িত্ববোধ ও শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার অদম্য প্রত্যয় স্থানীয়দের আবেগাপ্লুত ও মুগ্ধ করেছে

জেএইচআর