বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ৪ নম্বর গৈলা মডেল ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা শীলা আক্তার (৩৫) গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার সেরাল গ্রামের রিপন সরদারের ভাড়া বাসায় ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারের সাথে তাঁর স্বামী- কার্যক্রম নিষিদ্ধ গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাতের—পারিবারিক কলহ নিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তার ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।
এ সময় প্রতিবেশীরা দেখতে পেয়ে ঘরের দরজা ভেঙে ইউপি সদস্যা শীলা আক্তারকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসান উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাতে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তিনটি কন্যাসন্তানের জননী মৃত শীলা আক্তার গৈলা ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যা ছিলেন। তাঁর স্বামী সেরাল গ্রামের শফিকুল ইসলাম মারুফ সেরনিয়াবাত একই ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য। শীলা আক্তার ছিলেন মারুফ সেরনিয়াবাতের দ্বিতীয় স্ত্রী।
মৃত শীলা আক্তারের বাবা সেরাল গ্রামের আব্দুস সালাম হাওলাদার জানান, গত এক বছর আগে মারুফ সেরনিয়াবাত আমার মেয়ে শীলা আক্তারকে বিয়ে করে। বিয়ের পর থেকে তারা সেরাল গ্রামের একটি ভাড়া বাসায় থাকত। কারণে-অকারণে স্বামী মারুফ সেরনিয়াবাত প্রায়ই মেয়ে শীলাকে মারধর করত।
শীলার মা ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার দিন শুক্রবার বিকেলে সেরাল গ্রামের ভাড়া বাসায় বসে মারুফ তাঁর মেয়ে শীলাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। তিনি আরও বলেন, নির্যাতন সইতে না পেরে ভাড়া বাসার দরজা বন্ধ করে শীলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে শীলাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাতে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মারুফ সেরনিয়াবাতের সাথে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। এ ব্যাপারে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসামাত্র পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
এএন
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন