সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: মেজর হাফিজ

সুমন খান, রাজস্থলী (রাঙ্গামাটি) প্রকাশিত: জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে: মেজর হাফিজ

রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই জোনের জোন কমান্ডার লে. কর্নেল নাজমুল কাদির শুভর নির্দেশনায় এবং রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকতের তত্ত্বাবধানে রাজস্থলী আর্মি ক্যাম্পে হেডম্যান ও কারবারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রোববার সকাল ১১টায় নিয়মিত মাসিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই সম্মেলন আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজস্থলী সাব-জোন কমান্ডার মেজর হাফিজ আহম্মদ সৈকত।

সম্মেলনে সাব-জোন কমান্ডার স্থানীয় হেডম্যান ও কারবারীদের সাথে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত হন। সভাপতির বক্তব্যে মেজর হাফিজ জানান, দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে সেনাবাহিনী অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে দুর্যোগে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর অবদানের কথা তুলে ধরে মেজর হাফিজ বলেন, এলাকায় কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজি করলে তাদের প্রতিহত করা হবে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা কখনো উন্নয়ন চায় না। যে এলাকায় শান্তি থাকবে, সে এলাকায় উন্নয়ন হবে। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ যে-ই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে এবং এই এলাকায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই হতে দেওয়া যাবে না।

এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে সাব-জোন অধিনায়ক কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে স্থানীয়দের সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে আইনের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে খুব শীঘ্রই যুবসমাজকে নিয়ে একটি প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট করার সিদ্ধান্তের কথাও তিনি জানান।

সম্মেলনে উপস্থিত হেডম্যান ও কারবারীদের উদ্দেশ্যে মেজর হাফিজ বলেন, দুর্গম এলাকার মানুষ যারা এখনো আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি, তাদেরকে আধুনিক সুবিধার আওতায় আনার জন্য সেনাবাহিনী কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। এলাকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে রাজস্থলী সাব-জোনের জেসিও মিজানুর রহমান, ১ নং ঘিলাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা, ২ নং গাইন্দ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পুচিংমং মারমা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান উথিনসিন মারমা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন মৌজা থেকে আগত ৯ জন ইউপি সদস্য, ৮ জন হেডম্যান, 102 জন কারবারী এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

জেএইচআর