গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি গ্রাম থেকে বিএম মাহমুদুল ইসলাম নোবেল নামের এক পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টরের (এসআই) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকালে শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড় থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মাহমুদুল খাগড়াছড়ির মহালছড়ি এপিবিএন-এ কর্মরত ছিলেন। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বিজয়পাশা গ্রামের মৃত হায়দার ভুঁইয়ার ছেলে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা ও শ্বশুর ঝুনু শেখকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সরকারি কাজে গোপালগঞ্জে আসেন মাহমুদুল। কাজ শেষে তিনি পাইককান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ওঠেন। সোমবার সকালের দিকে ঝুনু শেখের বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে স্থানীয় শিশুরা প্রথম তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে নিহতের স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মরদেহটি উদ্ধার করে রাস্তার পাশে একটি ভ্যানে এনে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, ১১ বছর আগে বিয়ের পর থেকেই ছুটিতে আসলে মাহমুদুল নিজের বাড়িতে না গিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে মাহমুদুলের সাথে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ছিল। মূলত স্ত্রীর মানসিক চাপ ও পারিবারিক জটিলতার কারণেই তিনি নিজের বাড়িতে যেতে পারতেন না।
নিহতের ভাই আশিকুজ্জামান ও ফুপাতো ভাই টুটুল অভিযোগ করে বলেন, মাহমুদুলের নিজের ভালো বাড়ি থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর চাপে তিনি সেখানে থাকতে পারতেন না। তাঁদের দাবি, পরকীয়ার জেরে মাহমুদুলকে পরিকল্পিতভাবে বিষ বা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যা করে পুকুরপাড়ে ফেলে রাখা হয়েছিল। নিহতের চাচা মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, স্ত্রীর পরকীয়া নিয়ে এর আগে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে। বিভিন্ন সময় স্ত্রীর আবদার মেটাতে মাহমুদুল ঋণ করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বিপুল অঙ্কের টাকাও দিয়েছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নিহতের স্ত্রী কানিজ ফাতেমা জানান, তাঁর স্বামী প্রতিদিন ভোরে উঠে ফজরের নামাজ পড়তেন। সোমবার সকালে ঘুম থেকে উঠে স্বামীকে বিছানায় না পেয়ে এবং তাঁর মোবাইলটি বালিশের পাশে দেখে তিনি খুঁজতে থাকেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বাড়ির সামনের পুকুরে লাশ ভাসতে দেখলে তিনি প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় সেটি উদ্ধার করেন।
গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেএইচআর
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন