বিনিয়োগকারীদের জন্য শুধু বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করায় অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিকেল ডিভাইস লিমিটেডকে। এই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়মিত করের পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রায় ৮০ লাখ টাকা সরকারী কোষাগারে প্রদান করতে হবে।
২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর পরিপত্র অনুযায়ি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করলে ন্যুনতম সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। যদি বোনাসের পরিমাণ নগদের চেয়ে বেশি হয়, তাহলে পুরো বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। এই পরিপত্র জারির পর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য মোট লভ্যাংশের অর্ধেক নগদ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। অন্যথায় অতিরিক্ত করারোপের শাস্তির আওতায় পড়তে হবে।
এই বিধানের পরেও জেএমআই সিরিঞ্জ অ্যান্ড মেডিক্যাল ডিভাইসের পরিচালনা পর্ষদ শুধুমাত্র বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। যাতে করে কোম্পানিটিকে জরিমানাস্বরুপ বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে ট্যাক্স প্রদান করতে হবে। গত সোমবার জেএমআই সিরিঞ্জের পরিচালনা পর্ষদ ২০২১-২২ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের শুধু ৩৬ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টাকার অংকে যার পরিমাণ ৭ কোটি ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩.৬০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের সমান করা প্রদান করতে হবে। যার পরিমাণ ৭৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
মূলত সর্বনিম্ন ৩০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধনের শর্ত পরিপালনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি এমন লভ্যাংশ দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এজন্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ি অতিরিক্ত কর দিতেও প্রস্তুত রয়েছে জেএমআই সিরিঞ্জ।
সমাপ্ত অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪.০৩ টাকা, যা ২০১৯-২০ সালে ছিল ৪.৩৫ টাকা। এছাড়া শেয়ারপ্রতি সম্পদ (এনএভি) হয়েছে ১২২.৭০ টাকা, যা ২০১৯-২০ সালে ছিল ১২১.৬৬ টাকা। জেএমআই সিরিঞ্জের পরিশোধিত মূলধন ২২ কোটি ১০ লাখ টাকা। ডিএসই’র ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ তথ্যানুসারে এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের অংশ ৭৯.৬৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ৫.৬০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১৪.৭৫ শতাংশ বিনিয়োগ আছে।
ইএফ
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন