ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও হেড অব ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এইচআইসিসি) এর মতামত ছাড়া সুদ মওকুফ করা যাবে না। এমন বাধ্যবাধকতা আরোপ করে পূর্বের দেয়া সার্কুলারের একটি উপধারা স্পষ্টীকরণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার এ বিষয়ে সার্কুলার দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের তা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, অপরিহার্য ক্ষেত্রে তহবিল ব্যয় আদায়ের শর্ত শিথিলের যৌক্তিকতা নিশ্চিতকরণে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের মাধ্যমে নিরীক্ষা ও হেড অব ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স (এইচআইসিসি) এর মতামত গ্রহণ করতে হবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে এক সার্কুলার দিয়ে ঋণের বকেয়া সুদ মওকুফ করতে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগ পর্যন্ত কেস টু কেস ভিত্তিতে ঋণের সুদ মওকুফ করতো বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। যেখানে বড় অঙ্কের ঋণের সুদ মওকুফ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া হতো।
গত এপ্রিলে দেওয়া সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ বহির্ভুত কারণে যেমন- ঋণগ্রহীতার মৃত্যু, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, মড়ক, নদী ভাঙ্গন, দুর্দশাজনিত কারণে বা বন্ধ প্রকল্প ইত্যাদি কারণে ব্যাংক কর্তৃক ঋণের সুদের সম্পূর্ণ অংশ বা অংশবিশেষ মওকুফ সুবিধা প্রদানের সুযোগ রয়েছে।
কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে ব্যাংক কর্তৃক বিভিন্ন গ্রাহকের অনুকূলে প্রায়শই সুদ মওকুফ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে, সুদ মওকুফ সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্যে গ্রাহকদের মাঝে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যাংকের পাওনা পরিশোধে অনাগ্রহ সৃষ্টি হতে পারে যা ব্যাংকিং খাতে সার্বিক ঋণ শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
তখন বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে র্পূণাঙ্গ সার্কুলার জারি করে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বকেয়া ঋণ আদায়ে সুদ মওকুফের সুযোগ দেওয়া হয় নিয়ম মেনে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সুদ মওকুফে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে। আর বলা হয়, ঋণ আদায়ে ব্যাংকের তহবিল ব্যয় আদায় করতে হবে। সেখানে বেশ কিছু শর্তও নির্দিষ্ট করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তারমধ্যে রয়েছে, তিন বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এমন প্রকল্প, ঋণের জামানত, সহজামানত, প্রকল্প সম্পত্তি ও প্রকল্প উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি থেকেও তহবিল ব্যয় আদায় করা সম্ভবপর না হলে। এছাড়া পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে আইনগত ব্যবস্থাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরও পাওনা আদায় করা না গেলে এবং ঋণগ্রহীতার মৃত্যু অথবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি, মড়ক, নদীভাঙন বা দুর্দশাজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা যৌক্তিক কারণে ঋণ পরিশোধে অপারগ হলে। এসব নীতিমালা তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য প্রযোজ্য হওয়ার কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর রাষ্ট্রায়ত্ব ও বিশেষায়িত ব্যাংকর বেলায় সরকারের নিয়মও মানতে বলা হয়েছে।
আমার সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন